ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রীডের বিরুদ্ধে এলাকার জনগন প্রথম থেকেই শান্তিপূর্ণ উপায়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করলেও এবং সরকারের সাথে আলোচনা চাইলেও, সরকার – প্রশাসন কোন ভাবেই তাদের আবেদনে সাড়া দেয়নি বরঞ্চ আন্দোলনকারীদের শায়েস্তা করতে এবং ভাঙড়বাসীর ন্যায্য আন্দোলনকে ভেঙে দিতে সরকার দুষ্কৃতি, প্রশাসন, আইন ব্যবস্থা কে সর্বতোভাবে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে গেছে। আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসার বদলে তাদের উপর UAPA সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে, কখনোবা ‘বহিরাগত’, ‘মাওবাদী’ ইত্যাদি তকমা দিয়ে জনগণের আন্দোলনকে ব্যাপক গণতান্ত্রিক রাজ্যবাসীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চলেছে, এমনকি এলাকায় অশান্তি সৃষ্টিকারী পুলিশ এবং পুলিশাশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, এক উচ্চমাধ্যমিক ছাত্র ও ১১ জন গ্রামবাসী সহ ১৩ জন আন্দোলনকারীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার কররা হয়েছিল(উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আবদুল্লাকে মাত্র দু’ফিন আগে ছাড়া হল তাও বিপুল শর্তসহ।
এহেন ঘটনা ঘটিয়েও ওই এলাকার ব্যাপক কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবী জনগনের আন্দোলনকে সরকার দমন তো করতে পারেই নি, বরং সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের রাজনৈতিক ফসল ঘরে তুলে ক্ষমতায় আসা মমতা ব্যানার্জী, কেবল তাঁর রাজনৈতিক বাধ্য-বাধকতার কারণে জনগনের দাবী মেনে মৌখিকভাবে প্রকল্পের স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেছেন (যদিও সরকারীভাবে কোন বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়নি, এছাড়াও আন্দোলনকারীদের উপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,বন্দীমুক্তিসহ গ্রামবাসীদের বাকী দাবীগুলি পূরণ করতে সরকারের তরফ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি)।
কিন্তু, গত কয়েকদিন ধরেই প্রকল্প এলাকায় ও আশেপাশের গ্রামে, ভাঙড় ১ -এর তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ ও তার সহযোগীরা দুষ্কৃতি সহযোগে অশান্তি তৈরীর লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, ঐ তৃণমূল নেতা ও দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে প্রশাসন, ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে আসা একটি সর্বভারতীয় মহিলা প্রতিনিধি দলকে হেনস্থা করেছে এবং আহাত আলি সহ গাজীপুরের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে রেখে এলাকার মানুষকে সন্ত্রস্ত করতে চাইছে ।
মুখ্যমন্ত্রীর “মানুষ না চাইলে পাওয়ার গ্রীড হবে না” এহেন মৌখিক ঘোষণার পর, যখন এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে এলাকার ৯৯% এর বেশী মানুষ প্রকল্প বাতিলের দাবীতে স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী ৪-৫ ই এপ্রিল এলাকায় জনশুনানি আয়োজনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে ও আন্দোলনকে দমন করতে, শাসকদলের নেতা, দুষ্কৃতি ও প্রশাসন যৌথভাবে এলাকায় অশান্তি ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে যেভাবে এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তা নিন্দাজনক ও গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক।
এই প্রেক্ষিতে আমরা ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে সরকারকে আন্দোলনকারীদের সাথে অবিলম্বে আলোচনায় বসার ও এই বিষয়ের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবী জানাচ্ছি এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর আগে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে অশান্তি তৈরীর এই প্রচেষ্টাকে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি।

— ভাঙড় আন্দোলনের সংহতিতে ছাত্রছাত্রীরা-র
পক্ষ থেকে
মৈনাক, প্রিয়স্মিতা, প্রিয়ম।